দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিকাশ ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান প্রধান হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২১ মে) রাতে উপজেলার নাকাইহাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত আরা, বড় ভাই শাহ আলম, আইনজীবী মেহেদী হাসান স্বপন, চাচা মাহফুজার মণ্ডল ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
নিহতের স্ত্রী জিন্নাত আরা অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নিহতের চাচা মাহফুজার মণ্ডল বলেন, আসামিরা ফেসবুকে এলাকায় ফিরে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর হুমকি দিচ্ছে এবং নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এরপরও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব দ্রুত তাদের আটক করা হবে।”
গত ১২ মে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হন আনিছুর রহমান মণ্ডল (৪০)। পরে ১৩ মে ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আনিছুর রহমান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাই গ্রামের নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বিকাশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বড় ভাই শাহ আলম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
জে আই